মুসা ইব্রাহীমকে নিয়ে কালের কণ্ঠ ও বাংলানিউজের ক্লিকবেইটিং

উদ্ধার হয়েছেন মুসা ইব্রাহীম। কারস্টেনয পিরামিডের বেইজক্যাম্পে আটকা পড়ার পাঁচ দিন পর উদ্ধার ১৯ জুন উদ্ধার পান বাংলাদেশের এ পর্বতারোহী। তার সঙ্গে ভারতেরও দুজন পর্বতারোহী ছিলেন।

তবে তার আটকা পড়ার খবর নিয়ে ঠিকই ‘ক্লিক ব্যবসা’ করে নিয়েছে কালের কণ্ঠ অনলাইনবাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। মুসার প্রতি মানুষের আগ্রহকে পুঁজি করে দুটি উদ্ভট, অসত্য খবর প্রকাশ করে ওয়েবসাইটের ক্লিক বাড়িয়ে নেয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি।

মুসাদের আটকা পড়ার খবরটি কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয় একটি ক্লিকবেইট শিরোনাম দিয়ে। অন্য সব মূলধারার অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমে ওই খবরের শিরোনাম ছিল এমন: মাউন্ট কারস্টেনযে আটকা পড়েছেন মুসা ইব্রাহীম। সেখানে কালের কণ্ঠ অনলাইনের শিরোনাম ছিল মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মুসা ইব্র্রাহীম

খবরের মূল বিষয়টি হলো বেইজ ক্যাম্পে নেমে আসার পরদিন তারা খারাপ আবহাওয়ায় আটকা পড়েন। একই সময়ে তাদের খাবার শেষ হয়ে যায়। এই তথ্য থেকে কালের কণ্ঠ অনলাইন শিরোনাম করে ‘মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন মুসা ইব্রাহীম’! শনিবার দিবাগত রাত (ইংরেজি হিসাবে ১৮ জুন সোমবার) ৩টা ২৪ মিনিটে প্রকাশিত ‘খবরটি’ ফেইসবুকে শেয়ার হয়েছে ৭৩ হাজার বার।

এর ১২ ঘণ্টা পর অর্থাৎ সোমবার দুপুর ৩টা ৫৪ মিনিটে ভালো আছেন মুসা ইব্রাহীম শিরোনামে খবর প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ অনলাইন। অথচ ওই খবরটিতে যা বলা হয়েছে সেসব তথ্যই দেয়া যেত ছিলো আগের ক্লিকবেইট ‘খবরে’।

বাংলানিউজের ক্লিকবেইট শিরোনাম ছিলো ‘মুসা ইব্রাহীমের ওপর হিংস্র আদিবাসীদের হামলার শংকা’। এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে এতে বলা হয়, ওখানকার আদিবাসীরা খুবই হিংস্র স্বভাবের। বছর দশক আগেও তারা মানুষ শিকার করে মাংস খেত বলে প্রচার আছে। … তবে আশার কথা হলো , এখনো তেমন কিছু হয়নি। হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

এই ‘খবরে’ একাধিক ভুল রয়েছে। প্রথমত, মানুষের মাংস খাওয়ার সঠিক তথ্য নেই, আছে এ বিষয়ক ‘প্রচার’ থাকার কথা। দ্বিতীয়ত, এমন হওয়ার আশঙ্কাও কম বলে খবরেই বলা হচ্ছে। তবু খবরের ওয়েবসাইটে ক্লিক বাড়াতে ‘খবরের’ শিরোনাম হয় ‘মুসা ইব্রাহীমের ওপর হিংস্র আদিবাসীদের হামলার শংকা’। ‘মুসা ইব্রাহীমকে খেয়ে ফেলবে আদিবাসীরা’- স্রেফ চক্ষুলজ্জায় বোধহয় এমন শিরোনাম করেনি বাংলানিউজ! ১৮ জুন রাত ৯টায় বাংলানিউজে প্রকাশিত আদিবাসীদের মুসাকে খেয়ে ফেলার আশঙ্কাসম্বলিত খবরটি ফেইসবুকে শেয়ার হয়েছে দু’হাজার নয়শ বার।

কারস্টেনয এলাকার আদিবাসীদের সম্পর্কে তথ্য রয়েছে এখানে। সেই তথ্য অনুযায়ী ওখানে দুই ধরনের আদিবাসী রয়েছে। তাদের কারোরই মানুষের মাংসপ্রীতির কথা জানা যায়নি সেখানে।

কালের কণ্ঠের ক্লিকবেইট খবর ।। কালের কণ্ঠের স্বাভাবিক খবর ।। বাংলানিউজের ক্লিকবেইট খবর

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s