ফ্যাক্ট-চেক: পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সময়। গতবছর আরো তিন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের পর তা চরম রূপ নেয়। এ প্রেক্ষিতে দেশের নানা মহল থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি ওঠে।

পাকিস্তান কী বলেছিল? আর এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মন্ত্রী-সাংসদরা কী বলেছিলেন, এবং সম্প্রতি কী বলছেন তার টাইমলাইন।

পাকিস্তান যা বলেছে

২০১৩ সাল

কাদের মোল্লার ফাঁসি :: ফাঁসির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস হয়। প্রস্তাব উত্থাপন করেন পাকিস্তানের জামাত-ই-ইসলামীর (জেআই) নেতা শের আকবর খান। এতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে সমর্থন করার কারণে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রবীণ নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পার্লামেন্ট গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষ নেওয়ায় কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এটা বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড। কাদের মোল্লার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে একাত্তরের ক্ষত কাটিয়ে ওঠা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মামলাগুলো সদয়ভাবে বিবেচনার দাবি জানায় পাকিস্তানের পার্লামেন্ট।

এর আগে পার্লামেন্টে পয়েন্ট অব অর্ডারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষ নেওয়ায় কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। এটা বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড। একাত্তর সালে পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন করে কাদের মোল্লা দেশ-প্রেমিকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছেদ হওয়ায় পাকিস্তানিদের মনে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে আবারও ব্যথা দেওয়া হলো এই ফাঁসির মাধ্যমে।

২০১৫ সাল

কামারুজ্জামানের ফাঁসি :: পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে আমরা আমলে নিয়েছি। আগে যেমন বলেছিলাম, আমরা বাংলাদেশে চলমান বিচার (একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার) নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মন্তব্যকেও আমলে নিয়েছি। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেশটির পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”[১৪ এপ্রিল, ২০১৫]

সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি :: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও নিদারুণ যন্ত্রণার সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে কার্যকর করা হলো। এ ঘটনায় পাকিস্তান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আমরা এর আগেও দেখেছি, বাংলাদেশে ত্রুটিপূর্ণ বিচারের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।” [২২ নভেম্বর, ২০১৫]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা :: ইসলামাবাদে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে পাকিস্তান বলে, পাকিস্তান বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনীর দোসরদের বিচারের মাধ্যমে পাকিস্তানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা করে পাকিস্তান দাবি করে, বাংলাদেশ ওই চুক্তির অপব্যাখ্যা করছে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলেও পাকিস্তান দাবি করছে, যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তাদের বিচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একই সঙ্গে পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতাও নাকচ করে। [৩০ নভেম্বর, ২০১৫]

বাংলাদেশের মন্ত্রী-সাংসদরা ২০১৫ সালে যা বলেছেন

কোনো দেশের বিরূপ মন্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ” …আমরা অবশ্যই কিছুটা হতাশ, যে আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশ- তারা এ ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন, যার কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে তারা মতামত দিয়েছেন। তো… আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়ার জন্য হাই কমিশনারকে আজকে আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছি। এ বিষয়ে তাদের সরকারের যে অবস্থান এতদিন ছিল, আশা করি এখন তার পরিবর্তন হবে।”

কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না, তাদের(পাকিস্তান) শুভবুদ্ধির উদয় হবে।” [২৩ নভেম্বর, ২০১৫]

পাকিস্তানিদের মতো বেওয়াকুফের মতো কাজ করব না: এইচ টি ইমাম

পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে দাবি উঠেছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, “সবকিছুর পরেও আমাদের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলতে হবে। যে কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা আপনারা বলছেন, যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা বলছেন, সবকিছু মিলিয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের এখন অন্যরকম একটি পরিচয়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নের মডেল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন বিশ্বনেত্রী। তাঁর সরকার বা তাঁর অধীনে আমরা যাঁরা কাজ করি বা তাঁর দল—আমরা তো পাকিস্তানিদের মতো বেওয়াকুফের মতো কাজ করব না।”

এইচ টি ইমাম বলেন, পাকিস্তানের জনগণ এখনো জানে না যে একাত্তরে কী হয়েছিল। যাঁরা জানেন, তাঁরা এর প্রতিবাদ করছেন। অনেকে বলছেন, পাকিস্তানের উচিত বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া। কিন্তু পাকিস্তানের মিলিটারি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ কতিপয় ব্যক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা কখনো মেনে নিতে পারেননি। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে যে পরাজয়, সেই গ্লানি তাঁরা ভুলতে পারেন না। এটি মনে হলেই তাঁদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তখন যত উল্টাপাল্টা কথা তাঁরা বলতে থাকেন। [৫ ডিসেম্বর, ২০১৫]

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মূল্যায়ন হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, “তাদের (পাকিস্তানের) সঙ্গে সম্পর্ক—আমরা অবশ্যই সেটা অ্যাসেসমেন্ট করছি, মূল্যায়ন করছি। কি করা দরকার, সেটিও ভাবছি। কিন্তু সম্পূর্ণ জিনিসটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় বলেন, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ১৯৭১ সালের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষা অতটা শক্ত ছিল না, কিন্তু তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন। আসমা জাহাঙ্গীর, হামিদ মীরসহ পাকিস্তানের অনেক বিশিষ্ট নাগরিকও যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এখনতো এসব বলে লাভ নেই যে তারা কিছুই করেনি। [৬ ডিসেম্বর]

সংসদে ব্যবস্থার আশা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, “এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে! তারা বলেছে, বাংলাদেশে নাকি কোনো গণহত্যা হয় নাই, কোনো নারী ধর্ষিতা হয় নাই, কোনো মানুষ তারা মারে নাই, মুক্তিযুদ্ধও আমরা করি নাই।”

“পাকিস্তানের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের আমরা কেবল নিন্দা করি তা নয়, শুধু প্রত্যাখ্যান করি তা নয়; আগামী সংসদ অধিবেশন এই জানুয়ারি মাসেই বসবে, সেই সময় সংসদে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এটাই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা।”

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, “পাকিস্তান যদি এমনি ধরনের কথা বলতে থাকে, আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করে, তাকে অস্বীকার করে, তাহলে পাকিস্তানের সাথে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক-এটা থাকতে পারে না। এটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যেই।” [১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫]

২০১৬ সালে বাংলাদেশের মন্ত্রী-সাংসদরা যা বলছেন

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আপাতত ছিন্ন হচ্ছে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী সংসদে বলেন, “কোনো দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চললে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় না। যুদ্ধের সময়ও সম্পর্ক বজায় থাকে। আজ পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত আমরা সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাচ্ছি না। সময়কে বিবেচনায় নিতে হবে। জাতীয় স্বার্থ মাথায় রাখতে হবে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মূল্যায়ন করি এবং পদক্ষেপ নিয়ে থাকি। পাকিস্তানের ​ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য হবে। ভবিষ্যৎই বলে দেবে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে।” [০২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার বিষয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে: নাসিম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “পাকিস্তানের আচরণে জনগণ ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের এমন হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।”

নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু বাংলাদেশ বিষয়ে পাকিস্তান সব সীমা অতিক্রম করছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার বিষয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। [১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের সময় হয়নি: ওবায়দুল কাদের 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “কূটনীতির হিসাব আলাদা। এখনও সময় হয়নি, সে পর্যায় এখনও আসেনি। সময় হলে বোঝা যাবে।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “যত বিষোদগার করুক, এই বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কোন শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। এই মাটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কারও কাছে নতি স্বীকার করবে না।” [১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদে মঙ্গল বাংলাদেশের: শেখ সেলিম

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফজলুল করিম সেলিম সংসদে বলেন, “পাকিস্তান আমাদের চিরশত্রু। তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জড়িত। তারা ষড়যন্ত্র করে বিডিআর বিদ্রোহ করিয়েছে। এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার কোনো যৌক্তিকতা নাই।”

“পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব- বিষয়টি চিন্তা করতে এবং এটা করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হবে।” [১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬]


সূত্র: প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪ডটকম, কালের কণ্ঠ

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s