ফ্যাক্ট-চেক: গ্রাহকের আঙুলের ছাপ মোবাইল কোম্পানির হাতে চলে যাবে?

বাংলাদেশে মোবাইল সিম নিবন্ধন/যাচাইয়ে আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) গ্রহণ পদ্ধতি চলছে। এই পদ্ধতি চালু হয় গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি

চলতি মাসে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের বিরুদ্ধে একটি প্রচারণা শুরু হয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চলে যাবে বিদেশি মোবাইল কোম্পানিগুলোর হাতে।

ফেইসবুক প্রবল জনপ্রিয় হওয়ার কারণে একে ব্যবহার করেই বিরোধী প্রচারণাটি চলছে। এ নিয়ে ইভেন্টও খোলা হয়েছে ফেইসবুকে। এতে আগামী ৩১ মার্চ দুপুর ৩টায় শাহবাগে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমর্থন দিয়েছেন সাড়ে ছয় হাজার জন।

অবৈধ আন্তর্জাতিক কল ব্যবসায় জড়িত একটি চক্র এই প্রচারে সবচেয়ে সক্রিয় বলে খবর প্রকাশ করেছে দৈনিক সমকাল। ওই চক্রের পাশাপাশি জঙ্গিবাদে জড়িতরাও এই প্রচারে লিপ্ত, বলছে বাংলানিউজ২৪ডটকম।

Finger Print-1বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের আঙুলের যে ছাপ নেয়া হচ্ছে তা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিজের ফেইসবুক পেইজে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। মোবাইল অপারেটররা আঙুলের ছাপ জমা রাখছে না এবং তাদের কাছে এই ছাপগুলো জমা রাখার প্রযুক্তিও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে গ্রাহকের দেয়া তথ্য মিলিয়ে দেখতে গত বছর নভেম্বরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি করেছিল দেশের মোবাইল অপারেটররা।

এই মিলিয়ে দেখার সক্ষমতার বিষয়টিতে নজর দেয়া হয়েছিল এই পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময়ই। সেসময় জাতীয় তথ্যভাণ্ডারে মোবাইল অপারেটরদের অ্যাক্সেস বাড়ানো হয়েছিলো, যার ফলে তথ্য মেলানোয় সাফল্যের হার ৪৫% শতাংশ থেকে ৮০%-এ উন্নীত হয়েছিলো।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোবাইল গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করে সৌদি আরব। সেখানেও সংগৃহীত বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে দেশটির জাতীয় তথ্য কেন্দ্রে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে। দেশটি বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো গতবছর।

নতুন এই নিয়ম, সৌদি নাগরিক ছাড়াও পর্যটক এবং হজ ও উমরাহ হজ পালনে যাওয়া বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

বায়োমেট্রিকের বিরুদ্ধে প্রচারণায় পাকিস্তানের উদাহরণও টানা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, পৃথিবীতে পাকিস্তান প্রথম দেশ যারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সিম নিবন্ধন করেছে। এভাবে তারা বোকামি করেছে বলেও প্রচারণায় বলা হচ্ছে।

পাকিস্তান কি গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য মোবাইল কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছে? না, দেয়নি। পাকিস্তানের নাগরিকদের যে তথ্যভাণ্ডার রয়েছে তার সাথে মিলিয়ে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করেছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। একটি নির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের বিপরীতে কয়টি সিম কেনা হয়েছে তা জানার ব্যবস্থাও রেখেছে পাকিস্তান।

ইন্ডিয়ায় সিম কার্ড নিবন্ধনে বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক করার কথা ওঠে ২০১৩ সালে। সে বছরের মাঝামাঝি এ আহ্বান জানিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশ কমিশনার। গত বছরের মার্চে ইন্ডিয়ায় অধিবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্যসমৃদ্ধ ‘আধার কার্ড’ ব্যবহার করে নিবন্ধন শুরু করে ভোডাফোন। পরবর্তী সময়ে আদালতের এক আদেশে কার্যক্রমটি স্থগতি হয়ে যাওয়ায় ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়ার পরিকল্পনা করেছে দেশটির মোবাইল অপারেটররা।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s