পালিয়ে যাওয়া পুলিশ এবং প্রথম আলোর গুলিবিহীন রাইফেল

আশুলিয়ায় তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি হামলা চালান ৪ নভেম্বর।এতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য মুকুল হোসেন মারা যান। গুরুতর আহত হন আরেক পুলিশ সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকী।

ওই হামলা প্রতিরোধ না করে কাছের শালবনে পালিয়ে যান বাকি তিন পুলিশ সদস্য। কেন কোনো প্রতিরোধ গড়েননি তারা? কেন পালিয়ে গেলেন? এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ। ৬ নভেম্বরে প্রকাশিত দুই প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, কেন তারা পালিয়ে গিয়েছিলেন তা ‘খতিয়ে দেখা’ হচ্ছে।Ashulia-Police-Prothom-Alo

তবে পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে তার শিরোনাম: পুলিশের রাইফেলে গুলি ছিল না। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কালের কণ্ঠের তৈরি প্রতিবেদনের শিরোনাম নিরাপত্তা নির্দেশ মানে না পুলিশ

ভুল-অথচ-আকর্ষণীয় শিরোনামে প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনটির তৃতীয় বাক্যেই কর্তব্যরত বাকি তিন পুলিশ সদস্যকে হাস্যকর করে তোলার চেষ্টা দেখা যায়: “তিনজন পুলিশ সদস্য তো শালবনের দিকে দৌড়ে পালিয়েই গেছেন।” এছাড়া প্রতিবেদনটি শুরুই হয়েছে ভুল বাক্য দিয়ে যাতে বলা হচ্ছে “আশুলিয়ার বাড়ইপাড়ায় কর্তব্যরত পাঁচ পুলিশ সদস্যের কারও রাইফেলেই গুলি ছিল না।” এই বাক্য পড়ে পাঠক কী বুঝবেন? পাঠক বুঝবেন যে, তল্লাশি চৌকিতে দায়িত্ব পালন করতে যে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে তাদের রাইফেল দেয়া হয়েছে। তবে এরই সঙ্গে পাঠক এও বুঝবেন যে, ওই পুলিশ সদস্যদের গুলি দেয়া হয়নি।

কিন্তু ঘটনাটি বাস্তবে তা নয়। না হলে কী হবে, ওই সত্য তো পাঠক প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ৪ কলামে ছাপা খবর পড়ে বুঝতে পারবেন না! বুঝতে হলে তাকে যেতে হবে এর পরের পৃষ্ঠায়! যে-খবরের শুরুর বাক্যই হলো “আশুলিয়ার বাড়ইপাড়ায় কর্তব্যরত পাঁচ পুলিশ সদস্যের কারও রাইফেলেই গুলি ছিল না।” সে-খবরের পরবর্তী তিন প্যারাগ্রাফের ১৯৫টি শব্দে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। এবং ৪ কলাম জুড়ে এই ১৯৫টি শব্দ প্রকাশ হয়েছে প্রথম পৃষ্ঠাতেই।

Simonov-SKS-45
চাইনিজ রাইফেল। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে

পত্রিকাটির দ্বিতীয় পৃষ্ঠার চতুর্থ কলামে এই খবরের বাকি অংশ প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়েছে: “পরে পালিয়ে যাওয়া তিন সদস্য কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তাঁদের কারও রাইফেলেই গুলি ছিল না।”

এরপরই্ মূল তথ্যটি জানার সুযোগ পাবেন পাঠক। তিনি জানবেন, যে, পুলিশ সদস্যদের গুলি ছাড়া শুধু অস্ত্র দিয়ে তল্লাশি চৌকিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়নি। তাদের কাছে গুলি ছিলো! প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে: “কর্মকর্তারা জানান, রাইফেল ও গুলি পুলিশ সদস্যদের কাছে আলাদাভাবে ছিল। ওসব রাইফেলে গুলি ভরা খুব ঝক্কির নয়, তবে কিছু সময় লাগে। গুলি ভরা না থাকায় তাঁরা গুলি চালাতে পারেননি।”

Ashulia-Police-Prothom-Alo-Jump

জাম্প পৃষ্ঠায় প্রতিবেদনের ২৫৪তম বাক্যে এসে পাঠক জানতে পারলেন যে, পুলিশ সদস্যদের কাছে শুধু চায়নিজ রাইফেল নয়, গুলিও ছিলো। সেগুলি আলাদা ভাবে ছিলো। গুলি করার আগে তা রাইফেলে ঢুকিয়ে নিতে হয়।

চায়নিজ রাইফেলে গুলি ভরাই থাকে, নাকি থাকে না- বাংলাদেশের সব মানুষ নিশ্চিতভাবেই এটা জেনে বসে নেই। এ কারণে, পাঠক যখন প্রথম আলোর ভুল-অথচ-চাতুর্যপূর্ণ শিরোনাম পুলিশের রাইফেলে গুলি ছিল না পড়েন তখন তিনি বুঝে নেন যে, ওই পুলিশ সদস্যদের কাছে শুধু রাইফেল ছিলো, গুলি ছিলো না।

একই বিষয়ে ৬ নভেম্বর কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন এদিক দিয়ে সৎ। নিরাপত্তা নির্দেশ মানে না পুলিশ শিরোনামের ২ কলামের ওই খবরটি প্রকাশ হয় প্রথম পৃষ্ঠায়। এর শুরুতেই বলা হয়: “আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকার চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের আগে শিল্প পুলিশের পাঁচ কনস্টেবলকে বুলেটনিরোধী জ্যাকেট পরতে বলা হয়েছিল। প্রত্যেকের সঙ্গে একটি করে চায়নিজ রাইফেল ছিল। সেগুলোতে গুলি ভরে রাখতে বলা হয়েছিল।” এটুকু পড়ে পাঠক বুঝতে পারেন যে, কর্তব্যরত ওই পুলিশদের কাছে রাইফেলের পাশাপাশি গুলিও ছিলো, তবে তারা রাইফেলে গুলি ভরে রাখেননি।

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনটি শব্দসংখ্যায় প্রথম আলোর প্রতিবেদনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিবেদনটি পুলিশের নিজেদের নিরাপত্তার উদ্যোগ বিষয়েও তথ্যপূর্ণ।


• প্রথম আলোর প্রতিবেদন

• কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s