ভূমিকম্প: ৭,০০০ মানুষকে ভুল তথ্য দিল কালের কণ্ঠ অনলাইন

KKantho-Poroborton-Eisamay

ভুয়া দুঃসংবাদটা বাংলাদেশে পেয়েছেন মূলত দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন সংস্করণের পাঠকরা। তাও তিনদিন আগে। একইসঙ্গে পরিবর্তন ডটকম নামের একটি অনলাইনও তার পাঠকদের ভুয়া খবরটি দিতে সক্ষম হয়েছে।

ভারতের বাংলাভাষী মানুষদের এই ভুয়া খবর দেয়ার দায়িত্বটি পালন করেছে দৈনিক ‘এই সময়’-এর অনলাইন সংস্করণ।

১৮ অক্টোবর বাংলাদেশি অনলাইন দুটি এক ‘খবর’ ছেপেছে যার শিরোনামে বলা হয়েছে এক ভূমিকম্প আসছে যাতে ৪ কোটি মানুষ মারা যাবে।

kaler-Kantho
কালের কণ্ঠ অনলাইনে ভুল ‘খবরে’র স্ক্রিনশট। বড় করে দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন

বাংলাদেশের দুই অনলাইন মিলিয়ে মোট আট হাজারের বেশি মানুষ এই ভুয়া ‘খবরটি’র বিস্তার ঘটিয়েছেন। কালের কণ্ঠের ‘খবর’টি ফেইসবুকে শেয়ার হয়েছে সাত হাজার দু’শবার। পরিবর্তনের শেয়ারের সংখ্যা এক হাজার দুশ। ফেইসবুক ডেটা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মিলে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা দুবছর আগের এক গবেষণা বিবেচনায় নিলে, কালের কণ্ঠের ভুল ‘খবর’টি ফেইসবুক শেয়ারের মাধ্যমে পৌঁছেছে আরো দু’হাজার পাঁচশ ২০ জনের কাছে। এখানে শুধু ফেইসবুকের মাধ্যমে আসা সম্ভাব্য পাঠক সংখ্যার একটি ধারণা দিচ্ছি। ভুল ‘খবর’টির সঠিক পাঠকসংখ্যা শুধু কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষই জানেন।

কালের কণ্ঠ অনলাইন ‘আসছে মেগাকোয়েক, মৃত্যু হতে পারে ৪ কোটি মানুষের’ শিরোনামের ‘খবরে’ পাঠকদের জানিয়েছে, “আগামী এক বছরের মধ্যে যে কোনোদিন যে ভূমিকম্প আসতে চলেছে” তাতে ” বৈজ্ঞানিকদের অনুমান” অনুযায়ী “কমপক্ষে ৪ কোটি মানুষ মারা যেতে পারেন”!

পরিবর্তন ‘আসছে মহাভূমিকম্প, মারা পড়বে ৪ কোটি মানুষ!’ শিরোনামের ‘খবরে’ এই সত্যও বলে দিয়েছে যে, এত বড় দুর্যোগ বিশ্ববাসী এখন পর্যন্ত দেখেনি।

কালের কণ্ঠ তার ‘খবরটি’র সূত্র হিসেবে নাম ছেপেছে এই সময়ের। পরিবর্তনের অনলাইন ডেস্কের কর্মীরা অবশ্য ‘খবরটি’ তৈরি করতে গিয়ে কালের কণ্ঠ অনলাইনের চেয়ে বেশি কষ্ট স্বীকার করেছেন। তারা ‘খবরে’র মূল উৎসের কাছে গিয়েছেন। মূল উৎস কী?

ei-samay-india
ভারতের এই সময় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে ভুল ‘খবরে’র স্ক্রিনশট।

বড় করে দেখতে ছবির ওপর ক্লিক করুন

মূল উৎস হলো ডেইলি এক্সপ্রেস নামের বৃটিশ একটি ট্যাবলয়েড দৈনিক। মূল ধারার কোনো ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে ‘খবর’টি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ড. মেহরান কেশে নামে এক ইরানি ভদ্রলোকের এক গবেষণার দাবি নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর এই ‘খবর’ প্রকাশ করে ট্যাবলয়েড এক্সপ্রেস। তার পরিচয় হিসাবে বলা হয়েছে, তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে নিউক্লিয়ার ইঞ্জনিয়ারিং বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন।

খবরে অবশ্য এও বলে দেয়া হয় যে, কেশের এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এবং বাংলাদেশে খবরের মূল উৎসের কাছে যাওয়া পরিবর্তন ডটকমও তাদের খবরে একথা উল্লেখ করেছে। উল্লেখ করে, তারা খবরটি প্রকাশ করেছে!

কেশে’র দাবি অনুযায়ী ওই ভূমিকম্পে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ভেঙে টুকরো হয়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে এই দুই মহাদেশের পশ্চিম উপকূল জুড়ে। সেখানে কমপক্ষে ২ কোটি মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন।

কেশে’র এসব দাবির কথা উল্লেখ করে কালের কণ্ঠ অনলাইন বলছে, “এর আগাম প্রস্তুতি হিসাবে আমেরিকা এবং কানাডার বড় শহরগুলিতে আপত্‍কালীন পরিস্থিতিতে কী কী করণীয় তা নিয়ে মক ড্রিল করা হচ্ছে নিয়মিত।”

বিষয়টা আসলে তা নয়। কালের কণ্ঠ অনলাইনের কর্মীরা তা জানেন না। কারণ তাদের ‘খবরের’ সূত্র ভারতের এই সময়। কষ্ট করে বৃটিশ ট্যাবলয়েড এক্সপ্রেসের খবরটি পড়লেই কালের কণ্ঠ অনলাইনের কর্মীরা আসল বিষয়টি জানতে পারতেন। এতে বলা হয়েছে, ১৬ অক্টোবর থেকে আমেরিকা ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া জরুরি পরিস্থিতির মহড়া পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ।

এসব কিছুই হয়নি। কারণ ভারতের এই সময়ে প্রকাশিত ‘খবর’টি হুবহু প্রকাশ হয়েছে কালের কণ্ঠ অনলাইনে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় ২,২০,০০০ ফেইসবুক ব্যবহারকারীর প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করা হয় এক মাসব্যাপী। তাদের গড় বন্ধুর সংখ্যা ছিল ২৬৬। এ বিষয়ক খবরটি পাওয়া যাবে এখানে

ভূমিকম্প বিষয়ক খবরটি ভুয়া হওয়ায় এই সময়, কালের কণ্ঠ, পরিবর্তন ডটকম কারো খবরের লিঙ্ক দেয়া হলো না

বৃটিশ ট্যাবলয়েড এক্সপ্রেসের খবরটি পাওয়া যাবে এখানে

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s