Tiger-Sculpture-Jugantor

বাঘের ভাস্কর্য ধসে ভ্যানচালক মরে, পত্রিকা খোঁজে ‘বাঘের প্রাণ’

বৃহস্পতিবার (২০ অগাস্ট) গভীর রাতে রাজধানীর সার্ক ফোয়ারায় বাঘের ভাস্কর্য ধসে পড়ে এক ঘুমন্ত ভ্যানচালক মারা গেছেন। খবরটি পাঠকরা শুক্রবার দিনের বেলা জানতে পারেন বিভিন্ন দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম থেকে।

শনিবার (২২ অগাস্ট) দেশের সব পত্রিকা ছবিসহ খবরটি ছেপেছে। প্রকাশের ক্ষেত্রে পত্রিকাগুলো খবরটিকে কেমন গুরুত্ব দিয়েছে সে বিষয়টি আমরা পরে দেখবো। তার আগে দেখে নিই বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংস্করণে খবরটির শিরোনাম কেমন ছিলো:
প্রথম আলো অনলাইন: প্রাণহীন বাঘ প্রাণ নিল ভ্যানচালকের
প্রথম আলো প্রিন্ট: বাঘের ভাস্কর্যের চাপায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের
কালের কণ্ঠ: প্রাণহীন বাঘও কেড়ে নিল প্রাণ
সমকাল: প্রাণহীন বাঘ প্রাণ কেড়ে নিল ভ্যানচালকের
ইত্তেফাক: প্রাণহীন বাঘ নিল ভ্যানচালকের প্রাণ
যুগান্তর: প্রাণ নিল নিষ্প্রাণ বাঘ: এ মৃত্যুর দায় কার
বাংলাদেশ প্রতিদিন: ম্যুরাল বাঘের চাপায় ভ্যানচালকের মৃত্যু
ডেইলি স্টার: Man killed as tiger statue falls on him
ঢাকা ট্রিবিউন: Tiger sculpture collapse kills man in capital

Tiger-Sculpture-Jugantor
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম পাশের সড়কদ্বীপে বাঘের ভাস্কর্য ধসে নিহত হন একজন ভ্যানচালক। ছবি: যুগান্তরের সৌজন্যে

একটি ভাস্কর্য ভেঙে পড়ে যেখানে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে সেখানে দেশের বাংলা দৈনিকগুলোর প্রায় সগুলোই ব্যস্ত থেকেছে শিরোনামে কাব্যিকতা আনার কাজে। ভাস্কর্য যে একটি প্রাণহীন জিনিস এটা যেকেউ জানে। বাঘের ভাস্কর্য ভেঙে পড়ে মানুষ মরেছে- একথা বললেই যেখানে হয়ে যায় সেখানে পত্রিকাগুলি ব্যস্ত ‘প্রাণহীন বাঘের প্রাণ নেয়ার’ শিরোনাম রচনায়। শিরোনামগুলো পড়লে মনে হয় যেন প্রাণহীন একটি বাঘ কোনো এক জাদুবলে একটি মানুষের প্রাণ নিতে সক্ষম হয়েছে। আর সেই মিরাকলের খবর দিচ্ছে আমাদের পত্রিকাগুলি।

অথচ বেশিরভাগ পত্রিকায় খবরটির শিরোনাম হতে পারতো এমন: ‘৫ বছরেই ধসল বাঘের ভাস্কর্য, প্রাণ গেল ভ্যানচালকের’। কিভাবে হতে পারতো এ শিরোনাম? হতে পারতো এ কারণে যে বেশিরভাগ পত্রিকার খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয় ২০১১ সালে।

দৈনিক সমকাল ভাস্কর্যটির স্থাপনের ভিন্ন সময় উল্লেখ করেছে। দৈনিকটি বলেছে, সার্ক ফোয়ারার পশ্চিম পাশের সড়কদ্বীপে স্থাপিত বাঘের ভাস্কর্যটি ২০০৪ সালে স্থাপন করা হয়। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় সেটি সংস্কার করা হয় বলেও উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ পাবলিশার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভাস্কর্যটি স্থাপন করে।

এক্ষেত্রে কোন্ প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা ভাস্কর্য কবছরের মাথায় ভেঙে পড়লো- এসব বিষয় নিয়েও শিরোনাম করতে পারতো সমকাল। এবং সেই শিরোনাম হতো আরো বেশি অর্থবহ।

এবারে আসা যাক খবরের গুরুত্ব প্রসঙ্গে। গুরুত্বের বিবেচনায় পাঠকরা খানিকটা ভাগ্যবান। কারণ রাজধানীর ব্যস্ততম একটি সড়কমোড়ে একটি ভাস্কর্য ধসে পড়ে একজন মানুষের মৃত্যুর খবর প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপার যোগ্য বলেই মনে করেছে প্রথম সারির বেশিরভাগ দৈনিক।

বাংলা পত্রিকার মধ্যে একমাত্র সর্বাধিক বিক্রিত দৈনিক প্রথম আলো খবরটিকে প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশের উপযোগী বলে মনে করেনি। ইংরেজি দৈনিক ডেইল স্টার খবরটি প্রকাশ করেছে শেষ পৃষ্ঠায়, আর ঢাকা ট্রিবিউন প্রকাশ করেছে দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s