DMP-Logo

মামলা নেই, তবু সাংবাদিককে থানায় হাজির হতে বলছে পুলিশ

প্রবীর সিকদারকে গ্র্রেফতারের দুদিন না যেতেই আবার আলোচনায় পুলিশ। না, এবার মিথ্যা কথা বলে কোনো সাংবাদিককে অফিস ধরে নেয়ার মতো কাজ করেনি তারা। এবার কোনো মামলা ছাড়াই দুই প্রতিবেদককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হাজির হতে বলেছে ঢাকা মেট্রোপলটিন পুলিশ।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের দু’জন প্রতিবেদককে থানায় হাজির করতে পত্রিকাটির সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রশাসন) মো. বদরুল হাসানের পাঠানো চিঠিতে প্রতিবেদককে তলবের কারণও বলা হয়েছে। কী কারণ? কারণ হলো পত্রিকাটিতেBD-Pratitidin-Police-Letter সম্প্রতি ‘বাড়াবাড়িতে অর্জন ম্লান, পুলিশ সদস্যরা বেপরোয়া, সম্মনিত নাগরিকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়:

আগস্ট রবিবার। সকাল ১০টা। ধানমন্ডি এলাকায় রিকশায় করে যাচ্ছিলেন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তবে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাধা দেন খোকন নামের পুলিশের এক সার্জেন্ট। অথচ শিক্ষিকার ঠিক আগের রিকশাটিকে টাকার বিনিময়ে পার হতে দিয়েছিলেন এক কনস্টেবল। পুলিশ ও রিকশাওয়ালার ঘুষ বিনিময় দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে শিক্ষিকা প্রতিবাদ করতেই তার দিকে তেড়ে আসেন পুলিশ সদস্য খোকন। ডাক দেন তারই সহকর্মী আরেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জিয়াকে। কোনো কথা বলার আগেই এএসআই জিয়া ওই শিক্ষিকার হাত ধরে চিৎকার করে বলেন, ‘এই বেটি তোকে এরেস্ট করলাম’। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি ওই শিক্ষিকাকে রিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা করে এএসআই জিয়া। রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসায় ওই যাত্রায় রেহাই পান মানুষ গড়ার কারিগর ওই শিক্ষিকা।

গত ২০ জুন ভাটারা এলাকার ভাড়াটিয়া ফারুক এবং আসাদ নামের দুই ব্যক্তিকে বাসা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক শফিউল আজম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হারুন অর রশিদ ও এএসআই রিয়াজ। কিছুক্ষণ পরই মোবাইল ফোনে এসআই শফিউল আজম আটককৃতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। নইলে গুম, ডাকাতি কিংবা বোমাবাজি মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। ওই রাতে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা শাহবাগ থানায় গেলে তাদের সামনেই আটককৃতদের মারধর করা হয়। এ দৃশ্য দেখে রাতেই পুলিশ সদস্যদের নগদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ফারুকের স্ত্রী জীবন নাহার। তিনি আরও বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় পরদিন তাদের মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়টির সুষ্ঠু বিচার চেয়ে আমি গত ২০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করেছি।’ [পুরো প্রতিবেদনের লিঙ্ক এই পোস্টের শেষে]

ওই সংবাদ প্রকাশের আগে বক্তব্য জানতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে ফোন করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মহাপরিদর্শক ফোন ধরেননি।

১১ অগাস্ট প্রতিবেদন প্রকাশের সাত দিনের মাথায় (১৭ অগাস্ট) প্রতিবেদকদের হাজির করার তলব পাঠায় ডিএমপি। চিঠিতে বলা হয়: “গত ১১ আগস্ট তারিখে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত শীর্ষক প্রতিবেদনের আলোকে বিষয়টি অনুসন্ধানের স্বার্থে বর্ণিত পত্রিকার শাহবাগ এবং ধানমণ্ডি এলাকার প্রতিবেদককে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই তাকে আগামী ২০ আগস্ট বিকাল ৪টায় প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে তথ্যাদিসহ নিম্ন স্বাক্ষরকারীর অফিসে হাজির করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।” আর শুধু হাজিরা দিলেই হবে না। পুলিশের জন্য সংবাদ-সংশ্লিষ্ট তথ্যও নাকি নিয়ে যেতে হবে তাদের!

পুলিশের এই ভূমিকায় বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম প্রশ্ন তুলেছেন, “মিডিয়ার বিরুদ্ধে হঠাৎ জেহাদ কেনো ?” পুলিশের পাঠানো চিঠিটি তিনি তার ফেইসবুক প্রোফাইলে শেয়ার করে এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

হ্যাঁ, দেশে তো সামরিক শাসন চলছে না যে পুলিশ চাইলেই একজন সাংবাদিককে ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য’ থানায় ডেকে পাঠাতে পারে! ওই সংবাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলাও হয়নি। তাহলে তাদের থানায় হাজির হতে বলার মতো অশিষ্ট আচরণ কিভাবে করে পুলিশ?

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s