Probir-Sikdar

প্রবীর আটক: খবরে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি দেশের পত্রিকাগুলো

থানায় জিডি করাতে ব্যর্থ হয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী ও অন্যদের নিয়ে ফেইসবুকে ১০ অগাস্ট একটি স্ট্যাটাস লিখেছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও শহীদ-সন্তান প্রবীর সিকদার। এরপর তাকে পুলিশ তার ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যায় রোববার (১৬ অগাস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। এই খবর দেশের কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ হয় রোববার রাত ১১টার পর।

ফেইসবুকে বিচরণকারী তরুণ বা তারুণ্য পেরুনো কিছু মানুষ খবরটা ইন্টারনেটে তখনই পেয়েছিলেন। তবে দেশের পাঠকদের একটি বড় অংশই সাধারণত রাতের ওই সময়ে খবর পড়ার জন্য ইন্টারনেটে ঘোরাঘুরি করেন না। যারা কেবল মুদ্রিত পত্রিকা পড়ে থাকেন তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য।

খুব স্বাভাবিকভাবেই সোমবারের (১৭ অগাস্ট) মুদ্রিত পত্রিকাই মানুষের ওই খবর জানবার বড় উৎস হওয়ার কথা। এদিনের কয়েকটি দৈনিক ঘেঁটে বোঝার চেষ্টা করলাম আমাদের সংবাদপত্রগুলি বাক-স্বাধীনতা তথা প্রবীর সিকদার গ্রেফতারের বিষয়টিকে কেমন গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘেঁটেঘুটে যা দেখা গেল তা নিতান্তই হতাশাজনক।

Probir-Sikdarজিডি করানোয় ব্যর্থ হয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস লেখার দায়ে চালাকি করে একজন সাংবাদিক এবং শহীদ-সন্তানকে পুলিশের আটকের ঘটনাটি প্রথম সারির বেশিরভাগ পত্রিকার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে প্রধান আটটি পত্রিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, কোনো বাংলা পত্রিকাই প্রবীর আটকের খবরটি প্রথম বা শেষ পৃষ্ঠায় ছাপতে পারেনি। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার প্রথম পৃষ্ঠায় (১ কলাম) এবং ঢাকা ট্রিবিউন শেষ পৃষ্ঠায় (২ কলামে) খবরটি প্রকাশ করে।

বিভিন্ন বাংলা পত্রিকার ১৭ অগাস্ট সংখ্যায় প্রবীর সিকদার আটকের খবরটি যেভাবে প্রকাশ হয়েছে:
প্রথম আলো: তৃতীয় পৃষ্ঠার চতুর্থ কলাম (১ কলাম)
কালের কণ্ঠ: দ্বিতীয় পৃষ্ঠার প্রথম কলাম (১ কলাম)
সমকাল: ১৯ পৃষ্ঠার সপ্তম-অষ্টম কলাম (২ কলাম)
বাংলাদেশ প্রতিদিন: দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ষষ্ঠ কলাম (১ কলাম)

দৈনিক ইত্তেফাকের মুদ্রিত সংস্করণে খবরটি প্রকাশ হয়নি। পত্রিকটির অনলাইন সংস্করণে প্রবীরকে নিয়ে খবর প্রকাশ হয় সোমবার সকাল ১১টায় (তবে তা হোমপেইজে দৃশ্যমান ছিলো না)। এছাড়া দৈনিক যুগান্তরের দ্বিতীয় সংস্করণে খবটি মুদ্রিত হয়েছে বলে এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। তবে পত্রিকাটির ই-পেপারে খুঁজে খবরটি পাওয়া যায়নি।

রোববার মধ্যরাতে গণমাধ্যমে আসা এই খবর স্বাভাবিকভাবেই দেশের ইন্টারনেটে বিচরণকারীরা জানবে সোমবার দিনের বেলায়। সেখানেও এক অাশ্চর্য ব্যর্থতার প্রদর্শনী। রোববার সন্ধ্যায় মিথ্যা কথা বলে পুলিশ একজন সাংবাদিক ও শহীদ-সন্তানকে ধরে নিয়ে গেছে- এই খবর সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের কোনো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের হোমেপইজে দৃশ্যমান ছিলাে না। শুধু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও ঢাকা ট্রিবিউনের অনলাইন সংস্করণে এ বিষয়ক খবর হোমেপইজে দৃশ্যমান ছিলো।

এরপর অবশ্য প্রবীর সিকদারের রিমান্ড আবেদন এবং তাকে জেলে পাঠিয়ে দেয়ার খবর প্রায় সব পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের হোমপেইজে চোখে পড়ার মতো জায়গায় প্রকাশ হয়।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s