Probit_Sikdar_Facebook_Status

সাংবাদিক প্রবীর গ্রেফতার এবং পুলিশ কর্মকর্তার মিথ্যাচার

সাংবাদিক বা অন্য কেউ-ই আইনের ঊর্ধ্বে নন। মামলা হলে কেউ আটক হতেই পারেন। কিন্তু জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে আটকের প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল?

প্রক্রিয়াটি ছিল মিথ্যায় ভর করা। প্রথমে তাকে তার ফার্মগেইটের ইন্দিরা রোডের অফিস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই নিয়ে যাওয়ার মধ্যেও ছিল চালাকি। প্রবীরকে প্রথমে পুলিশ তাদের গাড়িতে উঠিয়ে নেয় অফিস থেকে। এরপর কিছু পথ অতিক্রম শেষে তাকে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে ওঠানো হয় একটি প্রাইভেটকারে। সেটিতে করে তাকে নেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে।

Probit_Sikdar_Facebook_Status
ফেইসবুকের যে স্ট্যাটাসের কারণে প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তার স্ক্রিনশট

কেন তাকে গোয়েন্দারা ধরে নিল? এর জবাব বিডিনিউজ টোয়েনটিফোর ডটকমকে দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) সাজ্জাদুর রহমান। “প্রবীর সিকদারকে কোনো কারণে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি” জানিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “তিনি তার জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছেন এবং পুলিশ তাকে সহায়তা করছে না এমন একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ডেকে আনা হয়েছে। পুলিশ তার কাছে জানতে চাইছে, কী কারণে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

হ্যাঁ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৪ জন স্বজনকে হারানো ব্যক্তি প্রবীর সিকদার গত ১০ অগাস্ট তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে জীবন-শঙ্কা প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “আমি আমার জীবন শংকার কথা পুলিশকে জানিয়েছি। কোনও লাভ হয়নি। তখনও ফেসবুকের মাধ্যমে আমার জীবন শংকার কথা জনতার আদালতে পেশ করেছিলাম। আর কোনও অভিযোগ করবার সময় ও সুযোগ আমি নাও পেতে পারি। আমি আজ ফেসবুকের মাধ্যমে জনতার আদালতে জানিয়ে রাখছি আবার সেই জীবন শংকার কথা। আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন : ১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা। ফেসবুকের মাধ্যমে আমি সকল দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি।”

এই স্ট্যাটাস লেখার এক সপ্তাহ আগের এক পোস্টে প্রবীর জানান, জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকায় থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ সেই জিডি নেয়নি। তিনি বলেন, “আমাকে মোবাইল ফোনে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে ১৫ মাস আগে। সাথে সাথেই আমি শেরেবাংলা নগর থানায় জিডি করেছি। দীর্ঘ ১৫ মাসেও পুলিশ সেই জিডির কূলকিনারা করতে পারেনি। অতি সম্প্রতি ভয়ংকর জীবন শংকার মুখে একই থানায় আবার একটি জিডি এন্ট্রি করতে কাগজপত্র জমা দেই। পুলিশ তিনদিন ঘুরিয়ে জানিয়ে দেয়, জিডি এন্ট্রি সম্ভব নয়।”

১৬ অগাস্ট (রোববার) রাতে প্রবীর শিকদারকে পুলিশ ধরে নেয়ার খবরটি পড়ে পুলিশকে বিশ্বাস করেছিলাম। কারণ পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, “প্রবীর সিকদারকে কোনো কারণে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।” অথচ পরদিনই জানা গেল প্রবীরকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে আটক করে থানায় নেয়ার পর রোববার রাত ১১টার দিকে তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরে মামলাটি করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফেইসবুকে লেখার মাধ্যমে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন তিনি।

বেশ, বুঝলাম প্রবীরের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে মানহানী হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই ও মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের। সে কারণে তিনি মামলা করতেই পারেন। সেই মামলায় প্রবীর আটকও হতে পারেন। প্রশ্ন হলো, প্রবীরকে থানায় আটকে রাখার পর মামলা হবে কেন? আর প্রবীরকে থানায় নেয়ার কারণ হিসেবে পুলিশ মিথ্যা বলবে কেন?

বিডিনিউজের খবর

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s