অভিজিতের খুনী: পুলিশ, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন ও বন্যা

মুক্তমনা ব্লগার-লেখক অভিজিৎ রায় বর্বরভাবে খুন হওয়ার চার মাস পর হত্যায় জড়িত সাতজনকে সনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। মঙ্গলবার দেশের কয়েকটি দৈনিকে এই খবর প্রকাশ হয়। বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে দুটি দৈনিকের খবরে তদন্তে সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের স্ত্রী ও ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যার নামও আসে।

বাংলায় দৈনিক প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, “এসব ছবিসহ কিছু উপকরণ শনাক্ত করার জন্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে দেখাতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে।” তাদের খবরের শিরোনাম ছিল ‘সাতজনকে চিহ্নিত করেছে ডিবি’।

Avijit_Roy
অভিজিৎ রায় । ছবি উইকিপিডিয়া থেকে

ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, “Seven members of Ansarullah Bangla Team were involved in the murder of Avijit Roy, investigators said, adding that two of them had been positively identified by the blogger’s wife. (তদন্তকারীরা বলছেন, অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সাত সদস্য জড়িত ছিলেন। এদের মধ্যে দুজনকে [নিহত] ব্লগারের স্ত্রী সনাক্ত করেছেন বলেও জানান তারা।)” খবরটির শিরোনাম ছিল ‘Bonya identifies blogger Avijit’s killers’। সাতজনকে সনাক্ত করার এই খবর প্রকাশের চারদিন পর অর্থাৎ শুক্রবার ঢাকা ট্রিবিউনে এ বিষয়ে আরেকটি খবর প্রকাশ হয়। এর শিরোনাম ‘Mukto-Mona blog claims no one contacted Bonya’।

চারদিনের ব্যবধানে প্রকাশিত খবর তিনটি পড়ে দুটি বিষয়ে প্রশ্ন জাগে: ১) বন্যার খুনী সনাক্তের বিষয়, ২) বন্যার প্রতিক্রিয়া বিষয়ক খবরটির শিরোনাম।

মঙ্গলবারের প্রথম আলোর খবরে বলা হয়, খুনীদের ছবিগুলো দেখানোর জন্য বন্যাকে পাঠানো হয়েছে। পত্রিকাটিকে এই কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম। অথচ একই দিনে একই বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, ছবিগুলো এফবিআইকে পাঠানো হয়েছে এবং দুজন হত্যাকাণ্ডের জায়গায় ছিলেন বলে বন্যা ইতিমধ্যে সনাক্ত করেছেন। ট্রিবিউনের খবরের তথ্যসূত্র ছিলেন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

বন্যা খুনী সনাক্ত করেছেন- ট্রিবিউনের খবরের এই তথ্যটি ভুল বলে খবর প্রকাশের দিনই ফেইসবুকে বন্যা ও মুক্তমনা-সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দিতে থাকেন। তবে প্রথম আলোর খবর নিয়ে তারা কোনো বক্তব্য দেননি। সম্ভবত প্রথম আলোর খবরের শিরোনামে বন্যার নাম না-থাকায় বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি।

Rafida_Ahmed_Bonya
রাফিদা আহমেদ বন্যা। ছবি http://www.englishpen.org থেকে

বৃহস্পতিবার মুক্তমনা ব্লগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য আসে, যার ভিত্তিতে ট্রিবিউন দ্বিতীয় খবরটি প্রকাশ করে। মুক্তমনা ব্লগের সম্পাদকের আইডিতে প্রকাশিত প্রতিবাদে বন্যার খুনী সনাক্ত এবং ছবি পাঠানো দুটি বিষয়ই সরাসরি নাকচ করা হয়।

এতে বলা হয়, “আক্রমণের পর চার দিন স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা শেষে বন্যা আহমেদ যখন উন্নত চিকিৎসার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান তখন থেকে আজ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশ পুলিশ বা এফবিআই কারও পক্ষ থেকেই কোনো ছবি পাঠানো হয় নি সনাক্ত করা জন্য। তিনি কখনই অভিজিৎ রায়ের কোনো খুনিকে সনাক্ত করেন নি।”

ট্রিবিউনের দ্বিতীয় খবরের শিরোনামে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় বন্যার বক্তব্যকে:’Mukto-Mona blog claims no one contacted Bonya’। এই শিরোনাম পাঠককে এই ধারণাই দেয় যে, খুনী সনাক্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যই ঠিক ছিল।

ভিকটিম বন্যার বক্তব্যকে দাবির পর্যায়ে ঠেলে না দিয়ে অন্য শিরোনাম কি হতে পারত? এমন শিরোনামও তো করা যেত: ‘Bonya: No one sent any photo for verification (বন্যা: সনাক্ত করতে কোনো ছবি পাঠানো হয়নি)’।

প্রথম আলোর খবরে দেখা যায়, বন্যার খুনী সনাক্তের কোনো তথ্য নেই। তবে এই তথ্য আছে, যাচাইয়ের জন্য বন্যাকে দেখাতে ছবি পাঠানো হয়েছে আমেরিকার এফবিআইকে। বন্যার জানানো প্রতিবাদ বিষয়ে প্রথম আলো শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত কোনো খবর প্রকাশ করেনি।

ডিসক্লেইমার :: এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পোস্টে প্রকাশিত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব। সেগুলোকে তার প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বিবেচনা করা হলে লেখক বা প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে না।

প্রথম আলোর খবর ।। ঢাকা ট্রিবিউনের খবর ১ ।। মুক্তমনার প্রতিবাদ ।। ঢাকা ট্রিবিউনের খবর ২

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s