মরা মুক্তিযোদ্ধার চিরকুট সাংবাদিকরা বিশ্বাস করবে কেন

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করেছেন। যেনতেন অপমান নয়। বাড়ি থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার মতো অপমান করা হয়েছে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে। প্রতিক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাটি কী করলেন? তিনি আত্মহত্যা করলেন।

তারপরও তাকে যে সচিব অপমান করেছিলেন তা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম বিশ্বাস করতে পারছে না। যদিও আত্মহত্যার আগে একটি চিঠিতে ওই কথা লিখে রেখে গেছেন ৬২ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান। তবুও তার কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়। এ কারণে তার আত্মহত্যার খবরের শিরোনামগুলি হয় এরকম:

  • সচিবের ‘গলা ধাক্কার অপমান’ সইতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা (প্রথম আলো অনলাইন)
  • অপমান করে বের করে দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা? (প্রথম আলো মুদ্রিত সংস্করণ)
  • ‘অপমানিত’ মুক্তিযোদ্ধার হোটেলকক্ষে আত্মহত্যা (বিডিনিউজ২৪ডটকম)
  • রাজধানীতে বিষপানে মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা (বাংলাদেশ প্রতিদিন)
  • সচিবের অপমান সইতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা (কালের কণ্ঠ)
  • আবাসিক হোটেল থেকে মুক্তিযোদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার (বাংলানিউজ২৪ডটকম)

প্রথম আলো অনলাইন সচিবের গলা ধাক্কার অপমানের বিষয়টি শিরোনামে আনলেও তা রেখেছে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে। বিডিনিউজ গলা ধাক্কার বিষয়টি বাদ দিয়ে শুধু অপমানকে শিরোনামে তুলে আনতে পারলেও সেটিকে আটকেছে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে। সাধারণত কোনো বক্তব্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নয়, বরং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য বোঝাতে শিরোনামে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে বক্তব্যের অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করা হয়। আবার কোনো বিষয় বা বক্তব্যকে কোনো সংবাদমাধ্যম সমর্থন না করলে কিংবা কোনো বিষয় বা বক্তব্য সম্পর্কে কোনো সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত হতে না পারলে তখন ওই বক্তব্য থেকে কোনো অংশ শিরোনামে ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

তাহলে প্রশ্ন জাগছে, প্রথম আলো অনলাইন এবং বিডিনিউজ মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুবের অপমানিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত নয়? অপমানিত হওয়ার বিষয়টি আইয়ুব নিজে একটি চিঠিতে লিখেছেন এবং লিখে মরে গেছেন। তাহলে এর সত্যতা যাচাইয়ের আর একটি মাত্র পথ থাকে, তা হলো সচিব মান্নানের সঙ্গে কথা বলা। অতো রাতে মান্নানের মোবাইল ফোনও পাওয়া গেছে বন্ধ। কাজেই অপমানের বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যায়। তাই হয়তো প্রথম আলো অনলাইন ও বিডিনিউজ অপমানের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেনি। কাজেই সচিবের ‘গলা ধাক্কা’ বা ‘অপমান’ শব্দগুলিকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে শিরোনাম লেখাই যায়! কারণ মরা মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুবের চেয়ে জীবিত সচিব হান্নান নিশ্চয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নিশ্চয়ই বেশি প্রয়োজনীয়।

ওদিকে প্রথম আলো মুদ্রিত সংস্করণ খবর লেখার বেলায় আরো এক কাঠি সরেস। তারা উদ্ধৃৃতি চিহ্নের ধারেকাছে যায়নি। অপমানের পুরো বিষয়টিকে দাঁড় করিয়েছে প্রশ্নের মুখে। আর ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি বিক্রিত দৈনিক পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনামটি আলোচনার অযোগ্য।

অনলাইন সংস্করণে প্রায়শই খানিকটা চটুল খবর প্রকাশে অভ্যস্ত কালের কণ্ঠ অনলাইন এই মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যার খবরটি নিয়ে ভালো শিরোনাম করেছে: সচিবের অপমান সইতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধার আত্মহত্যা।

শিরোনামে গলা ধাক্কার বিষয়টা থাকলে আরো ভালো লাগতো।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s