পেট্রল বোমা, কিশোরীর ‘চিঠি’, কালের কণ্ঠ

[আপডেট :: বুধবার রাত ২টা ২২মিনিট পর্যন্ত কালের কণ্ঠের লেখাটির শেয়ার ৮২ হাজারের (ফেইসবুকে ৪১ হাজার চারশ, শেয়ার দিস-এ ৪১ হাজার সাতশ) বেশি। এবং ওই সময় পর্যন্ত লেখাটি ভুল শিরোনামেই ওয়েবসাইটে বহাল আছে।]

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রল বোমা হামলায় সাত যাত্রীর পুড়ে মারা যাওয়ার খবর এখনো ‘তরতাজা’। এই ‘তাজা’ খবর ‘তাজা’ থাকতেই একে ‘কাজে’ লাগিয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠ।

পত্রিকাটি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সোায়া ৯টায় তার অনলাইনে ‘বিবিধ’ বিভাগে একটি লেখা প্রকাশ করে ‘পেট্রল বোমায় নিহত এক কিশোরীর চিঠি’ শিরোনামে। চিঠিটি প্রকাশ হয় হামলার ঠিক পরদিনই। এবং ওয়েবসাইটের সেই লেখার লিঙ্ক পত্রিকাটির ফেইসবুক পেইজে শেয়ার হয়েছে ‘পেট্রল বোমায় নিহত এক কিশোরীর চিঠি’ শিরোনামসহ।

কালের কণ্ঠ-ফেব্রুয়ারিকুমিল্লায় চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা হামলাটি হয় সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে (ক্যালেন্ডারের হিসাবে তখন ৩ ফেব্রুয়ারি)। স্বাভাবিকভাবেই ৩ তারিখ দিনের বেলা অর্থাৎ মঙ্গলবার দেশের সবগুলো অনলাইন সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি প্রকাশ হয়। খবরে দেশের পাঠকরা জেনে যান যে নিহত ৭ জনের মধ্যে দুজন ছিল বাবা-মেয়ে, তারা কক্সবাজার থেকে ফিরছিল। মেয়েটির মা-ও সঙ্গে থাকলেও তিনি কোনোভাবে ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে যান।

এইসব তথ্য যখন মানুষ জানে তখন সেই ‘নিহত কিশোরীর চিঠি’ প্রকাশ হলে তা পাঠকের কাছে কী পরিমাণ সাড়া জাগাবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বাস্তবেও তাই ঘটেছে। কালের কণ্ঠের ওই লেখাটি বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফেইসবুক ও শেয়ার দিস মিলিয়ে শেয়ার হয়েছে ৬৮ হাজারের বেশি, লাইক পড়েছে ১৯ হাজার। তো এতো এতো শেয়ার মানেই কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটের জন্য আরো বেশি বেশি হিট বাড়ার সম্ভাবনা। নিঃসন্দেহে এটি কালের কণ্ঠের জন্য ভালো ব্যাপার।

কিন্তু যে অসাধু শিরোনামের মাধ্যমে কালের কণ্ঠ এই বিপুল পরিমাণ শেয়ার (প্রকারান্তরে ওয়েবসাইটে হিট) সংগ্রহ করলো তা কি ঠিক হলো? এই অসাধু প্রক্রিয়া কি সাংবাদিকতার মান কে প্রশ্নবিদ্ধ করলো না? কেন বলছি কালের কণ্ঠের শিরোনামটি অসাধু? কারণ কালের কণ্ঠের শিরোনাম পড়ে যে কেউ ভাববেন যে পত্রিকাটি পেট্রল বোমায় নিহত কিশোরীটির একটি চিঠি প্রকাশ করেছে। কিন্তু লিঙ্কে ক্লিক করে ওই লেখাটি খোলামাত্র পাঠক প্রতারিত হবেন। তিনি দেখবেন সেটি আসলে মেয়েটির লেখা কোনো চিঠি নয়! সেটিআসলে সাজ্জাদুল ইসলাম নয়নের লেখা একটি ‘কাল্পনিক চিঠি’। যা তিনি লিখেছেন নিহত কিশোরীর জবানিতে, খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে।

হ্যাঁ,খালেদার বিএনপির ডাকা অবরোধ আর হরতালে পেট্রল বোমায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এবং প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহভাজন হিসেবে বিএনপির দিকেই আমরা আঙুল তুলবো এইসব হামলার জন্য। কারণ অবরোধ-হরতাল তারাই ডেকেছে, কাজেই তা বাস্তবায়নের জন্য এ ধরনের হামলা তাদের পক্ষেই করা স্বাভাবিক।

হ্যাঁ, একথাও ঠিক যে, ওইরকম একটি হামলায় নিহত এক কিশোরীর নামে একটি কাল্পনিক চিঠি কেউ লিখতেই পারেন খালেদাকে দায়ী করে, উদ্দেশ করে। একজন সাংবাদিকও তা করতে পারেন। একটি পত্রিকা তা প্রকাশও করতে পারে। কিন্তু তা কোনোভাবেই ‘পেট্রল বোমায় নিহত এক কিশোরীর চিঠি’ শিরোনামে চালিয়ে দেয়া যেতে পারে না। তাদেরকে শিরোনাম নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে। সৎ সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে তাদের শিরোনামে চিঠি শব্দটির আগে ‘কাল্পনিক’ শব্দটি যোগ করতে হবে। তাতে লেখার ফেইসবুক শেয়ারের সংখ্যা কমার ঝুঁকি থাকবে। তা সত্ত্বেও তাদের তা করতে হবে।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s