Khaleda-Zia-VOAnews

খালেদার ‘অডিও’, বিডিনিউজের ‘খবর’

[বিডিনিউজ২৪ডটকমের অবনতি মানে দেশের অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের অবনতির মোক্ষম সুযোগ। খালেদার অডিও বিষয়ক তথাকথিত খবর প্রকাশ বিডিনিউজের এক ধরনের অবনতি।]

২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বিডিনিউজ২৪ডটকমে একটা লেখা ছাপা হয়েছিল। ‘সাঈদীগেট এবং সংবাদ মাধ্যমের বিস্ময়কর নিরবতা’ শিরোনামের লেখাটা লিখেছিলেন অমি রহমান পিয়াল। তিনি একসময় বিডিনিউজে কাজ করতেন। মাঝে কিছুদিন বিরতির পর আবার সিনিয়র কপি এডিটর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। এখনো সেখানে কাজ করছেন কি না এবং ওই লেখাটি লেখার সময় তিনি সেখানে কর্মরত ছিলেন কি না তা আমার ঠিক জানা নাই। তো তার বক্তব্য ছিলো এই, বাংলা লিক্সে যে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর যৌন-আলাপের টেপ প্রকাশ হলো সেগুলি নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলি কোনো খবর প্রকাশ করছে না কেন? যদিও নিজামুল-জিয়াউদ্দিনের স্কাইপি কথোপকথন এক শ্রেণীর পত্রিকা গোগ্রাসে প্রকাশ করেছে।

যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অডিও এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক ও বেলজিয়াম প্রবাসী জিয়াউদ্দিনের স্কাইপি কথোপকথনের টেপ প্রকাশের সময়টা ছিল বেশ কাছাকাছি। ২০১২ সালের একেবারে শেষ দিকে সপ্তাহখানেক বা তার কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে নিজামুল-জিয়াউদ্দিন কথোপকথন এবং যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অডিও প্রকাশ হয়। বাংলাদেশে মূলত আমার দেশসহ ডানপন্থী কয়েকটি পত্রিকা নিজামুল-জিয়াউদ্দিন কথোপকথন প্রকাশ করে। তবে যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অডিও কোনো পত্রিকাই প্রকাশ করেনি।

বিডিনিউজ সেসময় নিজামুল-জিয়াউদ্দিন কথোপকথন প্রকাশ করেনি। নিজামুল-জিয়াউদ্দিনের কথোপকথনভি্ততিক কোনো খবরও প্রকাশ করেনি।তাদের কথোপকথন পাবলিক স্ফিয়ারে অ্যাভেইল্যাবল কিছু ছিল না। সেটা কোনো-না-কোনোভাবে অন্যায় প্রক্রিয়ায় নিজিদের দখলে নিয়েছিল কোনো এক পক্ষ যা পরে আমার দেশের সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে পৌঁছে। ধরে নেয়া যেতে পারে বিডিনিউজ একিদেক ব্যক্তির গোপনীয়তার সীমা লঙ্ঘন করতে চায়নি অন্যদিকে এই অসদুপায়ের সঙ্গী হতে চায়নি, তাই তারা এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেনি। একই কারণে অনলাইন সংবাদমাধ্যমটি যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অডিওকে ভিত্তি করেও কোনো খবর প্রকাশ থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিতেই পারে; যদিও যুদ্ধাপরাধীটির অডিওটি পাবলিক স্ফিয়ারে অ্যাভেইল্যাবল ছিলো। উল্টোদিকে, নিজামুল-জিয়াউদ্দিন কথোপকথন বা কথোপকথনভিত্তিক খবর প্রকাশের পক্ষে আমার দেশ শুধু একটি মাত্র কারণ দেখাতে পারে তা হলো জনস্বার্থ। শুধু এই একটি কারণেই ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেও আইনের হাত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে সংবাদমাধ্যমের।

যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অডিও পাবলিক স্ফিয়ারে অ্যাভেইল্যাবল করার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউটিউব অাকাউন্ট বাংলা লিকসের সর্বশেষ আপলোড করা অডিওটি ছিল ‘খালেদা জিয়াকে’ নিয়ে।সর্বমোট ৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ড ব্যাপ্তির ৫টি ক্লিপ ফেব্রুয়ারি বাংলা লিক্স অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করা হয় ইউটিউবে ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি [যদিও কথোপকথনগুলি ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসের এক সময়কার]। ক্লিপগুলোর শিরোনাম দেয়া হয় ‘খালেদা জিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা’। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের একমাস পর ইউটিউবে শেয়ার দেওয়া ওই ক্লিপগুলো ওই সময় বেশ শেয়ারও হয় ফেইসবুকে।

এবং অমি রহমান পিয়াল লেখার দুই বছর পর বিডিনিউজ২৪ডটকম তার আক্ষেপও ঘুচিয়ে দেয়! ভিডিওগুলি ইউটিউবে আপলোড হওয়ার একবছর পর সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫) বিডিনিউজ২৪ডটকম এনিয়ে ‘খবর’ প্রকাশ করে! ‘খবর’ থেকে জানা যাচ্ছে, ৫টি কথোপকথনের চারটি ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ শুরুর আগের। সেদিন ঢাকায় বোমা বিস্ফোরণে একজন মারা যায়, পোড়ানো হয় কয়েকটি গাড়ি। সিলেটে বাসে আগুন দেওয়া হলে পুড়ে মারা যান এক যাত্রী।

এই ‘খবরটি’ প্রকাশের আগে তারা কি অডিওর অথেনটিসিটি বা অডিও যে অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড হয়েছে তার অথেনটিসিটি নিশ্চিত হতে পেরেছে কিংবা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছে? এর কোনো হদিশ ‘খবরে’ না দিয়েই এইরকম একটা স্পর্শকাতর বিষয়কে তারা ‘খবর’ হিসেবে পরিবেশন করেছেন। এবং এমন এক সময়ে এমনভাবে অডিওগুলি নিয়ে ‘খবর’ পরিবেশন করেছে বিডিনিউজ যাতে করে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া এবং তার দলকে সরাসির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে দোষারোপ করাটা সুবিধাজনক।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগ, বাংলাদেশে বিডিনিউজ২৪ডটকম যার কনটেন্ট পার্টনার, বলছে, “প্রকাশিত কথিত কথোপকথনে বিএনপি নেত্রী তাঁর নেতাকর্মীদের ভৎর্সনা করেছেন, রাস্তায় লোক নামাতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ তবে কোন অডিওতেই নাশকতা কিংবা হামলা শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়নি৷ সুনির্দিষ্টভাবে কোথাও কিংবা কারো উপর হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কথাও নেই৷” আশ্চর্যের বিষয় হলো বাংলাদেশে পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রায়শই চমৎকার দৃষ্টান্ত রাখা বিডিনিউজ খালেদার এই ‘অডিও বিষয়ক খবরে’ কথিত শব্দটিও ব্যবহার করেনি। যদিও বিচারপতি নিজামুল হকের ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার খবরে স্কাইপ কথোপকথনের ক্ষেত্রে যথার্থভাবেই কথিত শব্দটি ব্যবহার করেছিল বিডিনিউজ।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s