প্রথম আলো অনলাইনের হজ ব্যবসা [সাংবাদিকতা সহজ কাজ ৪]

[বাংলা ভাষায় প্রথম আলোই একমাত্র পত্রিকা যারা একটি হজ গাইড প্রণয়ন করেছে। এটি পাবেন এখানে: http://bit.ly/ZluOPY%5D

দেশের সবচেয়ে প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো। তার অনলাইন সংস্করণটিও সবচেয়ে বেশি মানুষ পড়ে থাকে। দৈনিকটির অনলাইনে প্রায়ই উস্কানিমূলক, চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী শিরোনাম দেখা যায় যা অনলাইনটির হিট সংখ্যা বাড়ানোয় ভূমিকাও রাখে।

সর্বশেষ উস্কানিমূলক, চাঞ্চল্যকর, অসাংবাদিকীয় শিরোনামটি তারা করে ২৯ সেপ্টেম্বর। ‘হজ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর’ শিরোনামের খবরটি ফেইসবুকে এরই মধ্যে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এটি ফেইসবুকে শেয়ার হয়েছে ১৪ হাজার বার।

প্রথম আলোর ব্যবসায়ী শিরোনামনিউইয়র্কে এক মত বিনিময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তার বলা কথাগুলোর প্রায় প্রতিটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ার মতো। তিনি হজ, তাবলিগ জামাত, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, টক শো ও সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।

হজ-তাবলিগ জামাত প্রসঙ্গে লতিফ বলেন, “আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।”

প্রচুর মানুষ হজে যাওয়ায় শ্রমশক্তির অপচয় হয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এভারেজে (গড়ে) যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়; প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।”

জয় প্রসঙ্গ

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কোনো একজন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রথম আলোর সংবাদ থেকে: “সে সময় ওই প্রশ্নকর্তা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রসঙ্গ টানেন। জবাবে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘জয় ভাই কে?’ ওই সময় মঞ্চে থাকা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়।’”

বিডিনিউজের স্বাভাবিক শিরোনামবিডিনিউজের স্বাভাবিক শিরোনাম”জবাবে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘সে করার কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। এখানে জয়ের কিছু করার নেই। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কার্যকর করেন মন্ত্রী।’ তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন?’”

টক শো

আবারও প্রথম আলোর খবর থেকেই: “টেলিভিশনের টক শো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ’ওদের আমি বলি ‘‘টক মারানি’’।’ তিনি বলেন, ‘যারা টক শোতে যায় তারা টক ম্যান। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে। টকমারানিদের আর কোনো কাজ নেই।’”

সাংবাদিক

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বারবার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন মন্ত্রী। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, “আমি কি তোমার মতো কথা বলব? আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?”

খবরের শেষে প্রথম আলো বলছে, “ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হজ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যের পর স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে কড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।”

ধর্মীয় উস্কানি সৃষ্টি করতে চায় প্রথম আলো?

ধর্ম পৃথিবীর অনেক দেশেই একটি স্পর্শকাতর ব্যাপার। আর ভারতীয় উপমহাদেশে তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এটি দেশের যেকোনো শিক্ষিত মানুষ মাত্রই জানে। ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙা হলে বাংলাদেশে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। রামুতে কোরআন অবমাননার ভুয়া ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে ধর্মানুভূিত ব্যবহার করে হামলা হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ওপর।

এইসব বিষয় প্রথম আলোর মতো সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকার সংবাদকর্মীরা নিশ্চয়ই জানেন। এক্ষেত্রে আমরা প্রথম আলোর সংবাদকর্মীদের মুর্খ বলেও বিষয়টি উড়িয়ে দিতে পারি না। তাদের এ ধরনের ধর্মীয় উস্কানিমূলক শিরোনাম করাটা অপ-সাংবাদিকতারাই নামান্তর মাত্র। একটি সভায় মন্ত্রী বা অন্য কেউ যা বলবেন তার সবই সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করতে হয় না। দেশ-কাল-পাত্রই ঠিক করে দেয় কোনটি সংবাদ, কোনটি সংবাদ নয়। যে তথ্য প্রকাশ হলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে, কিন্তু প্রকাশ না হলে কোনো ক্ষতি নেই তাই দিয়ে শিরোনাম করলো প্রথম আলো। কারণ?

কারণ একটাই অনলাইনে এই জিনিস ভালো চলে। প্রমাণ ফেইসবুকে খবরটির ১৪ হাজার বার শেয়ার হওয়া।

একই বিষয় নিয়ে বিডিনিউজ২৪ডটকমও একটি খবর প্রকাশ করে। তবে তাদের সংবাদ ও শিরোনামটি বেশ দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক। তারা অপ্রয়োজনীয় তথ্যটুকু বাদ দিয়েই খবরটি ছাপে। তাদের সংবাদের শিরোনাম: “কথায় কথায় জয়কে টানেন কেন: লতিফ”।

সংবাদটি থেকে কি হজের প্রসঙ্গ বাদই দিতে হবে প্রথম আলোকে? না, বাদ না দিয়েও তো প্রথম আলো সংবাদটি প্রকাশ করতে পারত। সেক্ষেত্রে শিরোনামটি এমন হতে পারতো: “হজে অপচয় ৫০০ কোটি টাকা: লতিফ”। সেক্ষেত্রে পত্রিকাটির হিটের আকাঙ্ক্ষাও মিটতো, আবার খবরটিও খবরের চৌহদ্দীতে থাকতে পারত।

তাহলে অবশ্য খবরটি ইনকিলাব, সংগ্রাম, আমার দেশের মানের হতো না।

পুনশ্চ: প্রথম আলোর মুদ্রিত সংস্করণে খবরটি কিভাবে ছাপা হয় তা দেখতে আগ্রহী।

Advertisements

মন্তব্য?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s